Cনেস্কোপ

১৪৩১ বঙ্গাব্দের বাংলা ক্যালেন্ডার - Apr 2024

বাংলা সিনেমার তিন সোনার ছেলের জন্মশতবার্ষিকীর মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা। গণিতের নিরিখে তিনজনের বয়স একটি সমান্তর প্রগতি, যার সাধারণ অন্তর দুই। ২০২১ সালে আমরা পেরিয়ে এসেছি সত্যজিৎ রায়-এর জন্মশতবর্ষ, ২০২৩-এ মৃণাল সেন-এর আর ২০২৫ সালে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষ আসতে চলেছে। তাঁদের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে মানুষ নানাভাবে। আজ যখন ভিনরাজ্যের পরিচালক এসে বলে যান বর্তমান বাংলা সিনেমার মান খুবই খারাপ, এবং কার্যত তা মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো গতি নেই, এমন সময়ে এই তিন কৃতী বঙ্গসন্তানকে স্মরণ করা জরুরি। আনুষঙ্গিক প্রতি বাংলা নববর্ষের মতো ১৪৩১ বঙ্গাব্দেও প্রস্তুত করেছে বাংলা ক্যালেন্ডার। এই বছরের ক্যালেন্ডার বাংলা সিনেমাকে উৎসর্গ করেছি আমরা। আমাদের মতো করে উদযাপন করতে চাই এই তিন বাঙালি পরিচালকের জন্মশতবর্ষ।

ও কুমির, তোর জলকে নেমেছি

নির্মল হালদারের সত্তর বছর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে 'আনুষঙ্গিক' থেকে প্রকাশিত

একটি সুদীর্ঘ সাক্ষাৎকার কবি, সাহিত্যিক, সাহিত্যযশোপ্রার্থী তরুণ, সাহিত্য অনুরাগী সকলেরই কাছে এই বই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। কবিতা, গদ্য, উপন্যাসের হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের মধ্যে থাকা নানা দোলাচলের একরকম উত্তর পাওয়া যাবে, যে উত্তরের মধ্যে দিয়েই নির্মল হালদারকে পাঠক আবিষ্কার করবেন। বইটির নামঃ ও কুমির, তোর জলকে নেমেছি প্রকাশকাল: অক্টোবর, ২০১৫ মুদ্রিত মূল্যঃ ২৭৬ টাকা প্রাপ্তিস্থানঃ ধ্যানবিন্দু (কলেজস্ট্রীট) লালন (কলেজস্ট্রীট) মান্দাস (কলেজস্ট্রীট) হারিত বুক স্টোর (পাটুলি) ক্যুরিয়ারঃ +91-7980743158 (হোয়াটস্যাপ করুন এই নাম্বারে) যারা বইটি সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের মতামত জানাবেন।

দূরের স্বদেশ - আঘা শাহীদ আলি - দোলনচাঁপা চক্রবর্তী

A Bengali Transcreation of Agha Shahid Ali's "The Country Without a Post Office" By Dolonchampa Chakraborty

আঘা শাহীদ আলি ইংরেজি ভাষার একজন বলিষ্ঠ কবি। জীবদ্দশায় তাঁর একাধিক কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের মধ্যে The Country Without A Post Office অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে সেই কাব্যগ্রন্থের কিছু নির্বাচিত কবিতার বাংলা ভাষায় অনুসৃজন করেন দোলনচাঁপা চক্রবর্তী। সংকলনটির নাম "দূরের স্বদেশ"। বইটি আঘা শাহীদ আলি লিটারারি ট্রাস্টের খুব পছন্দ হয়, সেটি স্থান পায় তাঁদের আর্কাইভে। কাব্যগ্রন্থ জুড়ে জন্মস্থান কাশ্মীরের প্রতি আক্ষেপ শোনা যায় আমেরিকাবাসী কবির লেখায়। The Blessed Word: A Prologue এই কবিতা সিরিজের দ্বিতীয় কবিতা শুরু হচ্ছে ঠিক এইভাবে— "ওই শূন্যের ভেতর চেঁচিয়ে উঠতে দাও, আমার মতো করেই বলো। ওই শূন্যতাতেই লিখিঃ (কাশ্মীর, ক্যাশ্চমীর, ক্যাশ্মিয়্যার, খাশ্মীর, ক্যাশ্মির, ক্যাশমায়ার, কাশ্মীয়ার, ক্যাশেমায়ার, কাশ্‌মীঈর, ক্যাশ্মিয়ের, ক্যাস্‌মীর। অথবা কাহিনীর এক সাগরের ভেতর, কশেমার? অথবাঃ কাচ্‌মির, ক্যাশেমির, ক্যাস্‌মিয়্যার, ক্যাচমিয়ের, কাস্‌মীর, কার্সেমেয়ার?)" মাতৃভূমি যেন মাশুকার মতো। তাকে কত নামে ডাকা যায়। অষ্টত্তর শত নাম। সামান্য টেক্সটকে কতটা নন-লিনিয়ার করে দেওয়া যায় একাধিক ভাবে তাকে লিখে ব্যাকরণগত ভুল বানান লিখে। এটাই টেক্সটের প্রকৃত শক্তি। প্রকৃত অক্ষরশিল্পীর এখানেই পরিচয়। 'Lo, A Tint Cashmere' কবিতা সিরিজে তিনি আবার লিখছেন— "একটি খোয়াবের ভেতর আরেকটি খোয়াবের ভেতর আরেকটি খোয়াব উনি আবার আমার সঙ্গে দেখছেন" অবিকল ইনসেপশন— শুধু স্বপ্নের বদলে স্মৃতি। মহাযুদ্ধ পরবর্তী গোলযোগে গত শতাব্দীর বহু মানুষ ঘর ছাড়া হয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতিকাতরতা এখন সাহিত্যের মূল স্রোতে উৎকৃষ্ট স্থান দখল করে আছে, মূলত গদ্যে। আঘা শাহীদ আলি সেই ঘরানার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন কবিতার ভাষায়। আর সেই ভাষাকে ইংলিশ থেকে আমাদের বাংলায় অনবদ্য ভাবে সৃষ্টি করেছেন দোলনচাঁপা। তিনি The Country Without A Post Office-এর অনুসৃজন করছেন "বেঘর চিঠির স্বদেশ" বলে। আঘা শাহীদ আলি বলছেন যে দেশে পোস্ট অফিস নেই— দোলনচাঁপা সেখান থেকে এই ভাবনাকে উস্কে দিচ্ছেন যে চিঠির কোনো ঘর নেই। আবার সেখান থেকে তিনি সেই বেওয়ারিশ চিঠিদের একটা স্বদেশ-এর ভাবনা অবধি পাঠককে কল্পনা করতে প্ররোচনা দিচ্ছেন। ইংরেজি থেকে বাংলায় লাইন বাই লাইন অনুবাদ নয় শুধু— ভাবানুবাদ নয় শুধু— ভাবনার সম্প্রসারণ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে এক নতুন সাহিত্য। এর মালিকানা কার

স্মৃতি থেকে স্পিতি

A travelogue of SPITI Valley

হিমাচলপ্রদেশের স্পিতি উপত্যকা শতাব্দীপ্রাচীন পর্যটনকেন্দ্র। হিমালয়ের বুকে এই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল তার ব্যতিক্রমী ভূপ্রকৃতির জন্য বিখ্যাত। ২০১৯ সালে এই শীতল মরুভূমিতে ঘোরার অভিজ্ঞতা, সেখানকার মানুষের সাথে গড়ে ওঠা সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে “স্মৃতি থেকে স্পিতি” ভ্রমণকাহিনী। দ্রুতগামী আজকের জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নিয়ে পর্যটন এখন স্বল্পকালীন, সেই মাসের পর মাস ঘুরে বেড়ানো সেকেলে হয়ে পড়েছে জীবনের বাধ্যবাধকতায়। এই আধুনিক সময়ের বেড়ার মধ্যে থেকেই কিভাবে স্পিতির কয়েকটা দিন এক বিরল অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার হয়ে উঠেছে তাই গদ্যে এবং কবিতায় প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। গদ্যটি লিখেছেন সুরজিৎ পোদ্দার আর তার ফাঁকে ফাঁকে কবিতাগুলো লিখেছেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত।

ঝড় কখনও হার মানে না

A Bengali Transcreation of Avtar Singh Sandhu aka Pash's "Toofan Kabhi Maat Nahin Khate" By Dolonchampa Chakraborty

২০২০ সালে ডিসেম্বর মাসে দিল্লির টিকরি বর্ডার উত্তপ্ত হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে; মূলত পাঞ্জাব হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা প্রায় অচল করে দিয়েছিল দিল্লি। ভবিষ্যতে সরকার বাধ্য হয়ে সে আইন রদ করে। ১৯শে ডিসেম্বর হয়েছিল এক বিশাল কর্মসূচি সেখানেই প্রায় ৪০০কিমি সাইকেল চালিয়ে পাঞ্জাবের সুদূর ফরিদকোট জেলার রামিয়ানা গ্রাম থেকে এসেছিলেন ৪৫ বছর বয়স্ক কৃষক পাল সান্ধু, তার হাতের পোস্টারে লেখা ছিল 'সব তোন খতরনাক'— সবথেকে ভয়ঙ্কর; পাঞ্জাবি কবি অবতার সিং সান্ধু পাশ-এর কবিতা। ১৯৮৮ সালের মার্চ মাসে ভিসা রিনিউ করতে দেশে ফিরেছিলেন তিনি, আজীবন সাম্যবাদের সমর্থক, একাধিকবার জেল ও নির্যাতন পেরিয়ে আমেরিকায় থাকতেন সেইসময়। বিদেশে থাকলেও দেশের রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে ছিলেন মুখর, বামপন্থী এই কবি স্বাভাবিক নিয়মেই খালিস্তানি জাতিবাদী আন্দোলনের সোচ্চার বিরোধী ছিলেন; ফলস্বরূপ সেই বছর ২৩শে মার্চ খালিস্তানি জঙ্গিরা তাকে হত্যা করে। তার কবিতা পাঞ্জাবি থেকে হিন্দিতে অনুবাদ করেন বর্তমানে ভগৎ সিং আর্কাইভের কর্ণধার চমন লাল। সেই হিন্দি অনুবাদ থেকে অনুসৃজন করেছেন দোলনচাঁপা চক্রবর্তী। আনুষঙ্গিক থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ২০২২ সালে কলকাতা পুস্তকমেলায়। প্রথম মুদ্রণ ফুরিয়ে গেছে বেশ কিছুদিন। আজ থেকে মেলায় দ্বিতীয় মুদ্রণ পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম মুদ্রণের কিছু ভুল শুধরে নেওয়া হয়েছে এই মুদ্রণে এবং নতুন প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদ করেছে দেবাঙ্গনা দে।

ANUSHONGIK FOUNDATION Corporate Identification Number (CIN): U85500WB2023NPL261510 Non-govt Company under Companies Act, 2013

134/3 C.S. Mukherjee Street, Konnagar Housing, Flat No : E-7/5, Konnagar, Hooghly 712235